あらすじ
বৃন্দাবন হল ভারতবর্ষ তথা সারা বিশ্বের এক মহাতীর্থ। আর বৃন্দাবনের সবথেকে রহস্যময় কুঞ্জবন হল নিধুবন। এই কুঞ্জে প্রতি রাতে হয় শ্রীরাধাকৃষ্ণের রাস। আসলে গোলক বৃন্দাবনের অংশ যে এই ভৌম বৃন্দাবন। তাই গোলকে যেমন চলে নিত্য রাস তেমনই এই ভৌম বৃন্দাবনেও চলে সেই রাসের ধারা। শ্রীরাধা শ্রীকৃষ্ণ ও গোপিনীরা আজও এখানে রাস করে চলেন প্রতি রাতে। সেইসময়ে নিধুবনে কেউ থাকতে পারে না। এমন কি বনের বানররা পর্যন্ত বন ছেড়ে বেরিয়ে যায় তখন। রাসের দিব্য স্পন্দন ও দিব্য আনন্দ দেহে ধারন করা যে সাধারণ স্থূলদেহী প্রাণীদের পক্ষে অসম্ভব। তবে নিধুবনের এই রহস্যভেদের চেষ্টা যে হয় নি তা নয়। যুগে যুগে অনেক অবিশ্বাসী নাস্তিক আস্তিক যাঁরা এই রহস্যের সন্ধান করতে রাতে পাঁচিল টপকে ঢুকেছিল এই বনে বা কোনোভাবে এই দিব্যদর্শনের পরশ পেয়েছিলেন, তাঁদের অধিকাংশেরই কিন্তু পরেরদিন মৃতদেহ পাওয়া গেছে। আর যাঁদের জীবিত অবস্থায় পাওয়া গেছে তাঁরা প্রত্যেকেই রাতের অভিজ্ঞতার পর উন্মাদ হয়ে গেছেন। ফলে নিধুবনের রহস্য ভেদ হয় নি কোনভাবেই। নিধুবনের দিব্য দর্শন যাঁদের স্থূলদেহের বিনাশ ঘটিয়েছে তাঁদেরই একজন লেখকের প্রথম মন্ত্রশিষ্যা শর্মিলা- শর্মিলা রায় চ্যাটার্জি। যেমন হাসিখুশি স্মার্ট মেয়ে, তেমনই প্রচণ্ড শ্রীকৃষ্ণভক্ত। শ্রীকৃষ্ণ অন্তঃপ্রাণ এই মেয়েটি কিভাবে দীক্ষার পর সাধনজগতে প্রবেশ করল, কিভাবে শ্রীকৃষ্ণের কৃপা ওকে টেনে নিয়ে গেল বৃন্দাবনে এবং কিভাবে রাতের নিধুবনে ও লাভ করল শ্রীকৃষ্ণদর্শন সেই দিব্য অভিজ্ঞতাই তুলে ধরা হয়েছে “সেই বৃন্দাবনে লীলা অবিরাম” নামক এই গ্রন্থে। এই গ্রন্থ পাঠ করে ভক্ত পাঠক পাঠিকারা যদি ভক্তিরসে আপ্লুত হন এবং তাঁদের যদি একটু হলেও সাধনজগতে উত্তরণ ঘটে তাহলে সার্থক হবে লেখকের এই গ্রন্থ রচনার প্রয়াস।