あらすじ
অনন্ত অসীম অমৃতস্বরূপ পরমাত্মার অংশ জীবাত্মা। আর এই জীবাত্মা যখন মানবশরীর ধারণ করে তখন তাঁর মধ্যে জাগ্রত হয় অনন্তের প্রতি অপার্থিব আকর্ষণ। কিন্তু এই মায়ার জগৎ যে তাকে ঠেলে দেয় ভ্রান্তির পথে; আপন মোহে ভুলিয়ে টেনে আনে স্থূল জগতের মাঝে। ফলে সে ভুলে যায় নিজ আত্মস্বরূপ; ভুলে যায় সে নিজে অমৃতের সন্তান। কিন্তু তবু তাঁর গভীরে যে রয়েছে অনন্তের বীজ। তাই মায়ার জগতে ভুলে থাকলেও তার চেতনার গভীরে দেখা দেয় নানা দ্বিধা-দ্বন্দ্ব। যে জগৎকে নিয়ে আমরা মেতে আছি সেই জগৎই কি সব? না এর ওপারে রয়েছে অন্য কোন জগতের অস্তিত্ব? যদি সত্যিই তেমন কোন জগতের অস্তিত্ব থেকে থাকে তবে কিভাবে ক্ষণিকের আয়ু নিয়ে মানুষ তার সাথে সংযোগ স্থাপন করবে এবং কিভাবে মানুষ চিরন্তন পরমাত্মার সাথে সংযোগ স্থাপন করবে ইত্যাদি মুখ্য প্রশ্ন। আর সেই মুখ্য প্রশ্নের মুখ্য উত্তর এককথায় হচ্ছে যোগসাধন। যোগই হল পরমাত্মা ও জীবাত্মার মধ্যে সংযোগের একমাত্র মাধ্যম। কিন্তু যোগের অনেক শাখা। যেমন আছে কর্মযোগ, ভক্তিযোগ এবং জ্ঞানযোগ, তেমনই আছে মন্ত্রযোগ, লয়যোগ, ক্রিয়াযোগ, হঠযোগ, রাজযোগ তথা অষ্টাঙ্গিক যোগ। আধ্যাত্মিক জগতে অগ্রগতির জন্য ভক্তদের যোগসাধনা সম্বন্ধে অসংখ্য প্রশ্নের উত্তরে যে সহজ পথনির্দেশ সাধক লেখক তারাশিস গঙ্গোপাধ্যায় তাঁর আধ্যাত্মিক অধিবেশনে দিয়েছেন তার অনুপম সংকলন এই গ্রন্থ যা ভক্তদের যোগসাধনের পথে এগিয়ে যেতে সাহায্য করবে চিরকাল।