あらすじ
পরম আলোর উৎস থেকে উৎসারিত হয়ে সুপ্রাচীন সত্যযুগের কোন এক প্রভাতে লেখক নেমে এসেছিলেন এই ধরণীর বুকে। তারপর থেকে চলছে ধরার বুকে শুধু যাওয়া আসা, শুধু স্রোতে ভাসা। দেখতে দেখতে জন্মান্তরের পথ ধরে ঘটেছে কত বিবর্তন। ৮৪ লক্ষ যোনি পেরিয়ে লাভ হয় মানবজন্ম। মানব যোনিতেও কত পথ অতিক্রম করার পর খুঁজে পাওয়া যায় জীবন থেকে মহাজীবনের পথ। সেই পথে লেখক আজও এগিয়ে চলছেন আলোর দিশায়। লেখকের এই জন্মেও পেরিয়ে গেছে ৫১টি বসন্ত। পথ চলার ফাঁকে যখন সন্ধ্যা নামে, তখন ক্লান্ত দেহে তিনি মাঝে মাঝে পথের ধারে বসে ফিরে যান ফেলে আসা পথের দিকে- সেইসময় তাঁর মন আপনা থেকেই ডুবে যায় স্মৃতির পাথায়। তাঁর এই জীবনধারা দেখেছে কত ঢেউয়ের ওঠাপড়া, কত নিত্যনতুন ভাঙাগড়া। অপরাহ্নের আলোয় তিনি যখন প্রভাতের স্মৃতিচারণ করেন তখন পড়ন্ত বেলায় তাঁর ক্লান্ত অবসন্ন মনটা ভরে যায় ভোরের আলোর পবিত্র আবেশে। লেখক তাঁর আত্মজীবনী জীবন থেকে মহাজীবনের পথে-র প্রথম খণ্ডে লিখেছিলেন কিভাবে শৈশব থেকে মহাজীবনের পথে এগোনোর জন্য তাঁকে গড়ে তুলেছেন তাঁর গুরুদেব বাবা। তাঁর শৈশব থেকে মাধ্যমিক পরীক্ষা দেয়া পর্যন্ত ছিল প্রথম খণ্ডের সীমা। জীবন যেরকম অলৌকিকভাবে বিভিন্ন মহাত্মাদের কৃপার পরশে তাঁর চলার পথ সাজিয়ে দিয়েছিল তার বিবরণ তুলে ধরেছিলেন এই গ্রন্থের প্রথম খণ্ডে। প্রথম খণ্ডটি পাঠকসামাজে বিশেষভাবে সমাদৃত হবার পর পাঠক পাঠিকাদের অনুরোধে লেখা শুরু করেন দ্বিতীয় খণ্ড। মূলতঃ কত মহাত্মার অপার অলৌকিক কৃপার মধ্য দিয়ে যে তিনি জীবন থেকে মহাজীবনের পথে অগ্রসর হয়েছেন তা তুলে ধরেছেন এই গ্রন্থে। এই খণ্ডটি শুরু হয়েছে কাশীধামে লেখকের ক্রিয়াযোগের দ্বিতীয় স্তরের পাঠ প্রাপ্তি থেকে এবং শেষ হয়েছে ১৯৯৮ সালে যেখানে পরম গুরুদেব তাঁর দেহরক্ষার আগে লেখকের মধ্যে সঞ্চার করে দিয়েছিলেন এক দিব্যশক্তির কবচ। প্রথম খণ্ড যে ছোট্ট ধারাটিকে ছোট নদীর রূপ নিতে দেখেছিল, দ্বিতীয় খণ্ড দেখল সেই ছোট ধারার পথ চলা- আরো অনেক নদীর সাথে মিলনের পর বড় নদী হয়ে ওঠার স্মৃতিচারণ। জীবনে আলোর পথে অগ্রসর হতে গেলে যে কত মহাত্মারা কৃপা করে আমাদের মধ্যে প্রয়োজনীয় শক্তি যুগিয়ে দেন এই গ্রন্থটি লেখকের সেই দিব্য অভিজ্ঞতার স্বাক্ষর। কিন্তু প্রতিটি জীবনের লক্ষ্য যে হল অন্তহীন এক মহাসাগরের সাথে লীন হয়ে যাওয়া। সেই লক্ষ্যে আজো চলছে এই ধারার পথ চলা। চলার পথে প্রতি মুহূর্তে এই নদীতে উঠছে কত নতুন নতুন ঢেউ। ভাঙছেও সেসব ঢেউ সময়ের সাথে সাথে। ঢেউয়ের এই ওঠাপড়ার মাঝের ক্ষণটিতে স্মৃতির পাতায় লেখা হয়ে যাচ্ছে কত অকথিত কাহিনী। লেখকের এই জীবনেও নিত্য ঘটছে এমন কত ঘটনার ঘনঘটা। কত চরিত্রের সাথে হচ্ছে তাঁর যোগাযোগ। আর তাঁদের মাধ্যমে লাভ করছেন কত বিচিত্র অভিজ্ঞতা। কিন্তু আত্মজীবনীর সংক্ষিপ্ত পরিসরে সবার কথা লেখা সম্ভব নয়। এছাড়া অনেক নিগুঢ় দর্শন ও উপলব্ধি লেখকের এই জীবনকালে হয়েছে যা হয়তো কোনকালেই তাঁর পক্ষে কোথাও প্রকাশ করা সম্ভব হবে না। এখানে শুধু সেইসব চরিত্রের সাথে তাঁর যোগাযোগের কথাই লিখেছেন যাঁরা তাঁকে অধ্যাত্মপথের দিশায় এগিয়ে যেতে সাহায্য করেছেন এবং জীবন থেকে মহাজীবনের পথে সমৃদ্ধ করেছেন। এখানে লিখেছেন শুধুমাত্র সেইসব দিব্য এবং রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা, অলৌকিক কৃপার পরশ যা ছোট্ট তারাশিসকে ভক্ত লেখক তারাশিস গঙ্গোপাধায়ে রূপান্তরিত করেছেন। সেই স্মৃতির ধারা থেকে কিছু বিশেষ অভিজ্ঞতার মুহূর্ত দিয়ে সাজানো হয়েছে এই গ্রন্থের দ্বিতীয় খণ্ডটি। লেখকের সেই অভিজ্ঞতার পরশ পেয়ে তাঁর প্রিয় পাঠক-পাঠিকারাও যদি মহাজীবনের অমৃত আহরণের জন্যে উৎসাহিত হন তবেই সার্থক হবে লেখকের এই গ্রন্থ রচনার প্রয়াস।