あらすじ
ভূমিকা চিকিৎসাকর্মী হিসেবে বিপ্লবোত্তর ইরানে কাটিয়েছিলাম কয়েক বছর। সেই সুবাদে সুযোগ এসেছিল যুদ্ধ ও বিপ্লবের পাশাপাশি তৎকালীন জনজীবনের সংকট ও সংকল্পকে নিবিড়ভাবে অবলোকন করার। রণক্লান্ত ইরান তখনও ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি, চারিদিকে ধ্বংস ও মৃত্যুর ভয়াবহতা। সেই উত্তাল সময়ের অভিজ্ঞতার আলোকেই লেখা এই বই। চিকিৎসক হিসেবে তখন নানা পেশার মানুষের সাথে সহজে মেশার সুযোগটি কাজে লাগিয়েছি, মানুষকে বুঝার চেষ্টা করেছি। তেমনই দেশটি সম্পর্কে অদম্য আগ্রহের কারণে এর আনাচে কানাচে ঘুরে বেড়িয়েছি, এর কৃষ্টি ও সংস্কৃতিকে বুঝার চেষ্টা করেছি। বইতে বর্ণিত ঘটনাবলীর অনেক কিছুই আমার নিজের দেখা, তবে চরিত্রগুলো বেশিরভাগই কাল্পনিক। যুদ্ধ মানবজাতির জন্য এক অনাকাঙ্ক্ষিত বিপর্যয়। অথচ সততই দেখি মানব ইতিহাসে এর অনিবার্য অবস্থান। ইরানের বিপ্লব গত শতাব্দীর একটা অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা, যার প্রভাব সুদূরপ্রসারী। আমার মতো এই উপমহাদেশের অনেকেই তখন জীবিকার সন্ধানে ইরানে গিয়ে হাজির হয়েছিলেন। এদের ভেতরে দুই বাংলার পেশাজীবীদের সংখ্যাও নেহায়েত কম ছিল না, যারা একটি জনগোষ্ঠির জীবন ও সামাজিক মনস্তত্ত্ব উলটপালট করে দেয়া দুরন্ত সময়ের সাক্ষী। কিন্তু সমসাময়িক বাংলা সাহিত্যে এর উল্লেখ খুব একটা নেই। এর কারণটি আমার কাছে স্পষ্ট নয়। গত বছর বাংলাদেশে বইটি প্রকাশের পরে অনেকেই এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। এ নিয়ে পাঠকদের ভেতরেও গভীর আগ্রহ লক্ষ করেছি। লেখক হিসেবে আমি খুশি যে বাংলাদেশে বইটি বহুলপঠিত এবং আলোচিত। আশা করি ভারতীয় পাঠকদের কাছেও এটি সমাদৃত হবে। আমার অন্যান্য বইগুলোর মতো এই বইটির ভারতীয় সংস্করণের দায়িত্ব নিয়ে আবারও কৃতজ্ঞ করলেন সৃষ্টিসুখ প্রকাশন। রোহণ কুদ্দুসকে অশেষ ধন্যবাদ। বইটিতে গল্পের প্রয়োজনেই ইরানের ইতিহাস, সাহিত্য আর সংস্কৃতি বিষয়ক অনেক তথ্য উঠে এসেছে, চেষ্টা করেছি এর সততায় সচেষ্ট থাকতে। তবে এটি একটি উপন্যাস, এবং আশা করব পাঠক এতে উপন্যাসের উপাদানই খুঁজবেন। হুমায়ূন কবির
